৬ জানুয়ারি—কারাগারের শৃঙ্খল ভেঙে ইতিহাসে প্রত্যাবর্তন: আজকের দিনেই মুক্তি পেয়েছিলেন হিন্দুত্বের প্রতীক বীর সাভারকর

SHARE:

[responsivevoice_button voice="Hindi Female"]

VSK প্রতিবেদন: ৬ জানুয়ারি—ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনেই ব্রিটিশ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন হিন্দুত্বের অন্যতম প্রধান চিন্তাবিদ, বিপ্লবী নেতা বীর বিনায়ক দামোদর সাভারকর। যিনি বলেছিলেন—
“ওহ মাতৃভূমি! তোমার জন্য আত্মবলিদানই জীবন, আর তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকাই মৃত্যু।”

বীর সাভারকর ছিলেন একাধারে লেখক, কবি, সমাজসংস্কারক, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক, কৌশলবিদ ও অগ্নিঝরা বক্তা। ব্রিটিশ শাসনের অন্যায়, শোষণ ও দাসত্বের বিরুদ্ধে তাঁর চিন্তা ও কর্মকাণ্ড ভারতীয় সমাজে বিপ্লবী চেতনার সঞ্চার করেছিল। মাতৃভূমির মুক্তির জন্য তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে বিসর্জন দিতে দ্বিধা করেননি।

ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা। পুনের ফার্গুসন কলেজে পড়াশোনার সময় তিনি ও তাঁর ভাই প্রতিষ্ঠা করেন গোপন বিপ্লবী সংগঠন ‘অভিনব ভারত’। পরবর্তীকালে আইন পড়তে ইংল্যান্ডে গিয়ে তিনি ইন্ডিয়া হাউস ও ফ্রি ইন্ডিয়া সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ নিয়ে লেখা তাঁর গ্রন্থ ‘দ্য ইন্ডিয়ান ওয়ার অব ইন্ডিপেনডেন্স’ ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে।

১৯১০ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়। পথে তিনি ব্রিটিশদের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েন। দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁকে দুইবার আজীবন কারাদণ্ড দিয়ে আন্দামানের সেলুলার জেলে পাঠানো হয়—যা ছিল অমানবিক নির্যাতনের প্রতীক।

১৯৩৭ সালের পর সাভারকর দেশজুড়ে ভ্রমণ করে হিন্দু সমাজের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্যের আহ্বান জানান। হিন্দু মহাসভার সভাপতি হিসেবে তিনি একটি শক্তিশালী হিন্দু রাষ্ট্রের ধারণাকে সামনে আনেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজকে রক্ষা করতে হলে হিন্দু সমাজের সামরিক ও মানসিক শক্তি বাড়ানো জরুরি।

যদিও আজও তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে, তবুও একথা অস্বীকার করার উপায় নেই—বীর সাভারকর ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক অনন্য, সাহসী ও ত্যাগী অধ্যায়। ৬ জানুয়ারি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সেই মানুষটিকে, যাঁর কাছে মাতৃভূমিই ছিল সর্বোচ্চ সাধনা।

[the_ad id='179']

Leave a Comment

सबसे ज्यादा पड़ गई