ভারত রাশিয়ার তেল আমদানি করে ₹1.05 লাখ কোটি টাকার সাশ্রয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও নিয়ন্ত্রণ বজায় : সেপ্টেম্বরে আরও বাড়াবে আমদানি

SHARE:

[responsivevoice_button voice="Hindi Female"]

VSK প্রতিবেদন: গত কয়েক বছরে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বহু গুণ বাড়িয়েছে ভারত। এর ফলে সরাসরি লাভবান হয়েছে দেশীয় রিফাইনারি সংস্থাগুলি এবং দেশের তেল আমদানির ব্যয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২-২৩ আর্থিক বছর থেকে এখন পর্যন্ত ভারত রুশ থেকে  তেল কিনে কমপক্ষে ১২.৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.০৫ লাখ কোটি টাকা) সাশ্রয় করেছে।শুরুতে রুশি তেলের ওপর প্রাপ্ত ছাড় ছিল অনেক বেশি। ২০২২-২৩ সালে প্রায় ১৩.৬ শতাংশ ছাড়ে ভারত তেল কিনেছিল, যার ফলে প্রায় ৪.৮৭ বিলিয়ন ডলার (৪০,৪২১ কোটি টাকা) সাশ্রয় হয়। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ছাড় কমতে থাকে এবং ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে তা নেমে দাঁড়ায় মাত্র ২.৮ শতাংশে। তবুও ভারতে রিফাইনারিগুলির জন্য এটি লাভজনক প্রমাণিত হয়।২০২৩-২৪ সালে রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ ৩৭৩ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বেড়ে ৬০৯ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছায়। তাতে মোট সাশ্রয় দাঁড়ায় ৫.৪১ বিলিয়ন ডলার (৪৪,৯০৩ কোটি টাকা)। গড়ে প্রতি ব্যারেল রুশি তেলের দাম ছিল ৭৬.৩৯ ডলার, অন্য দেশ থেকে আমদানি করা তেলের তুলনায় প্রায় ৮.৮৯ ডলার (৭৩৮ টাকা) কম।

রুশি তেল আমদানির প্রশ্নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপও বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের আমদানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায়। আগস্ট মাসে তিনি আরও ২৫ শতাংশ ট্যারিফ ঘোষণা করেন, ফলে মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতকে রুশ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য করা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য মস্কোকে অর্থনৈতিকভাবে চাপ দেওয়া।তবে ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কাদের থেকে বাণিজ্য করবে, তা আমেরিকা নয়, ভারতই ঠিক করবে। দেশ কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রেখেছে, এবং রিফাইনারি কোম্পানিগুলি জানিয়েছে তারা রুশ তেল কেনা চালিয়ে যাবে।

২০২২ সালের আগে ভারতের মোট তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশীদারিত্ব ছিল ২ শতাংশেরও নিচে। পরে পশ্চিমী দেশগুলি মস্কোর তেল বর্জন শুরু করলে ভারত সুযোগ কাজে লাগায়। কয়েক মাসের মধ্যেই রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী হয়ে ওঠে, পিছনে পড়ে যায় প্রচলিত পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি। বর্তমানে ভারতের মোট তেল আমদানির এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসে রাশিয়া থেকে।বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনত না, তবে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল ঘাটতি তৈরি হতো এবং দাম অল্প সময়েই ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেল ছাড়িয়ে যেত। ফলে ভারত শুধু নিজে সস্তায় তেল পাচ্ছে তাই নয়, বৈশ্বিক বাজারও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করছে।সেপ্টেম্বর মাসে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আগস্টের তুলনায় ১০-২০ শতাংশ বাড়াতে পারে, যা দৈনিক প্রায় ১.৫-৩ লক্ষ ব্যারেলের সমান। রাশিয়ার রিফাইনারিগুলির ওপর সাম্প্রতিক ইউক্রেন আক্রমণের ফলে উৎপাদন কিছুটা কমলেও, আগামী মাসে মস্কোর কাছে রপ্তানির জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।রিলায়েন্স ও নায়রা এনার্জি-সহ বড় সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই রুশ তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার সংকেত দিয়েছে। সেপ্টেম্বরে রাশিয়া ইউরাল ক্রুড ব্রেন্টের তুলনায় প্রতি ব্যারেল ২-৩ ডলার কম দামে বিক্রি করছে, যা আগস্টের ১.৫ ডলারের ছাড় থেকেও বেশি।

আমেরিকার বাড়তি শুল্ক ও কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ভারত রুশ তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শুধু দেশীয় রিফাইনারিরা সস্তায় তেল পাচ্ছে তাই নয়, বৈশ্বিক বাজারেও ভারতের প্রভাব আরও দৃঢ় হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

[the_ad id='179']

Leave a Comment

सबसे ज्यादा पड़ गई