VSK প্রতিবেদন: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সরসংঘচালক মোহন ভাগবতজীর আজ তাঁর ৭৫তম জন্মদিন । এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক আবেগঘন বার্তা দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) লিখেছেন—
“মোহন ভাগবতজী ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ মন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়ে সমতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বোধকে শক্তিশালী করতে তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন। মা ভারতীর সেবায় সদা নিয়োজিত মোহনজির ৭৫তম জন্মদিনে আমি তাঁর অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব নিয়ে আমার অনুভূতি প্রকাশ করেছি। তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের জন্য প্রার্থনা করি।”
মোহন ভাগবতজীর পিতা, স্বর্গীয় মধুকররাও ভাগবত স্বাধীনতার পর থেকেই সংঘ ও জাতীয় পুনর্গঠনে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর জীবনই ছিল তরুণ প্রজন্মকে দেশসেবায় উদ্বুদ্ধ করার পথপ্রদর্শক। সেই ধারাবাহিকতায় পুত্র মোহন ভাগবতও সমাজসেবার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
১৯৭০-এর দশকে তিনি আরএসএস-এর প্রচারক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ইমারজেন্সির কঠিন সময়ে তিনি গণআন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং গ্রামীণ সমাজকে একত্রিত করতে সক্রিয় থাকেন।২০০০ সালে তিনি সরকার্যবাহ নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালে আরএসএস-এর সরসংঘচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে সংঘে বেশ কিছু ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসে— যেমন গণবেশ পরিবর্তন, শাখায় আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তি ব্যবহারে অগ্রগতি। করোনাকালে তিনি স্বয়ংসেবকদের নিরাপদে থেকে সেবামূলক কাজে যুক্ত থাকার আহ্বান জানান।
মোহন ভাগবতজীর নেতৃত্বের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল যুবসমাজের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। তিনি সামাজিক সমন্বয়, পরিবেশ সুরক্ষা, আত্মনির্ভরতা প্রভৃতি ক্ষেত্রকে প্রাধান্য দিয়েছেন। “পঞ্চ পরিবর্তন”-এর মাধ্যমে তিনি সমাজ সংস্কারের নতুন দিশা দেখান।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সহজ-সরল, মৃদুভাষী এবং সংগীত ও পাঠাভ্যাসে গভীরভাবে অনুরাগী। ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগ তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও প্রখর করেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— আরএসএস-এর এই শতবর্ষ উদযাপন বিজয়াদশমীর দিনই শুরু হবে (পশ্চিমবঙ্গে মহালয়ার দিন)। একই দিনে গান্ধী জয়ন্তী, লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মজয়ন্তী এবং সংঘের শতবর্ষ পূর্তি একত্রে পড়ায় এ বছরের উদযাপন আরও ঐতিহাসিক হয়ে উঠছে। লক্ষ লক্ষ স্বয়ংসেবকের কাছে এটি অনুপ্রেরণার নতুন অধ্যায় হয়ে থাকবে।




