অপারেশন সিন্দুর-এর ভয়ে জঙ্গিরা POK ছেড়ে পালাচ্ছে আফগান সীমান্তে : পাকিস্তানি এজেন্সি সাহায্য করছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনে

SHARE:

[responsivevoice_button voice="Hindi Female"]

VSK প্রতিবেদন: ভারতীয় সেনার সাহসী ও নির্ভুল ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর বড় ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তানে পালিত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলো। জইশ-এ-মোহাম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিন এখন তাদের পুরনো ঘাঁটি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) থেকে সরিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়া-র দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ঘাঁটি গড়ছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই কাজে পাকিস্তানের সরকারি সংস্থাগুলিই সরাসরি সাহায্য করছে।খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এবং আফগান সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে সেনা অভিযান চালানো কঠিন। ফলে এটি সন্ত্রাসবাদীদের কাছে হয়ে উঠছে এক ‘সুরক্ষিত ঘাঁটি’। এখানে নতুন করে অস্ত্র মজুদ ও জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ার চেষ্টা চলছে।

  • জইশ-এ-মোহাম্মদ তাদের পুরনো বহাওয়ালপুর ট্রেনিং ক্যাম্প সরিয়ে এনেছে মানসেহরা জেলার গড়ি হাবিবুল্লাহ শহরে।

  • হিজবুল মুজাহিদিন নতুন কেন্দ্র গড়েছে লোয়ারদির জেলার বন্দাই অঞ্চলে। এখানেই তারা খুলেছে নতুন ক্যাম্প ‘HM 313’ নামে।
    ‘313’ নামটি বেছে নেওয়া হয়েছে বদরের যুদ্ধ এবং আল-কায়েদার ‘ব্রিগেড 313’-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ‘জিহাদ’-কে বৈধতা দেওয়ার অপপ্রচার চালাচ্ছে সংগঠনটি।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ গড়ি হাবিবুল্লাহতে জইশ একটি ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজন করে। আশ্চর্যের বিষয়, সেখানে শুধু জঙ্গিরাই নয়, পাকিস্তানের স্থানীয় পুলিশের সদস্যদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিল যুবকদের র‌্যাডিকাল পথে টেনে আনা ও সন্ত্রাসবাদে যোগদান করানো।২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ পেশোয়ারে নিহত জইশ নেতা ইউসুফ আজহারকে (মাসুদ আজহারের ভাই) স্মরণে ভর্তি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা হয়েছে। সেখানেই সংগঠনটি নিজেদের নতুন নাম ‘আল-মুরাবিতুন’ ঘোষণা করতে পারে, যার অর্থ— ‘ইসলামের ভূমির রক্ষক’। সূত্র বলছে, এটি পশ্চিম আফ্রিকায় সক্রিয় আল-কায়েদা শাখার আদলে গড়ে তোলা হবে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই কর্মকাণ্ডে পাকিস্তানি সেনা, পুলিশ এমনকি কিছু রাজনৈতিক সংগঠনও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে। জইশ কমান্ডার মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মিরি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ আজহার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছে। এতে সংগঠনটির ভেতরে তীব্র ভাঙন ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।২২ এপ্রিল ২০২৫-এ কাশ্মীরের পাহালগামের বৈসারণ উপত্যকায় সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতীয় সেনা ৭ মে ২০২৫-এ ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালায়।এই অভিযানে পাকিস্তানের বহাওয়ালপুর, মুরিদকে, মুজাফফরাবাদসহ একাধিক জঙ্গি ও সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। এতে জইশ, হিজবুল ও লস্কর-এ-তোইবা-সহ একাধিক সংগঠন চূড়ান্ত ক্ষতির মুখে পড়ে।

‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সাফল্য পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলোকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে ভারতীয় সেনা চাইলে যে কোনো মুহূর্তে তাদের ঘাঁটি ধ্বংস করতে সক্ষম। তাইই এখন তারা PoK থেকে পালিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার মতো দুর্গম অঞ্চলে আশ্রয় নিচ্ছে। তবে গোয়েন্দা মহল আশঙ্কা করছে, পাকিস্তানি প্রশাসনের সহযোগিতা থাকায় এই নতুন ঘাঁটিগুলো আগামী দিনে ভারতীয় নিরাপত্তার জন্য আবারও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

[the_ad id='179']

Leave a Comment

सबसे ज्यादा पड़ गई