VSK প্রতিবেদন:
আজ ২৮ অক্টোবর, মহান মানবতাবাদী, শিক্ষাব্রতী ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেপথ্য সহযোদ্ধা ভগিনী নিবেদিতা-র জন্মদিন। যাঁর প্রকৃত নাম ছিল মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল, সেই আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া নারী ভারতের মাটিতে এসে হয়ে উঠেছিলেন “নিবেদিতা” — সম্পূর্ণভাবে মানবকল্যাণে ও নারীশিক্ষায় নিবেদিত এক জীবন।
স্বামী বিবেকানন্দের অনন্য ব্যক্তিত্ব, অহংবর্জিত স্বভাব ও উদ্দীপনাময় বাণী তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। ১৮৯৫ সালে লন্ডনে প্রথম সাক্ষাতের পরই তিনি অনুভব করেন যে, ভারতই তাঁর প্রকৃত কর্মভূমি। ১৮৯৮ সালে স্বামীজির হাতেই তিনি দীক্ষিত হন এবং নতুন নাম পান — “নিবেদিতা”, অর্থাৎ যিনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করেছেন।
কলকাতায় এসে তিনি কন্যাশিক্ষার প্রসারে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেছিলেন মা শারদাদেবী নিজে, যিনি নিবেদিতাকে আপন কন্যার স্নেহে আগলে রেখেছিলেন।
ভগিনী নিবেদিতা কেবল শিক্ষাব্রতীই নন, তিনি ছিলেন দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত এক সাহসিনী নারী। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্রান্তিকারীদের তিনি নানাভাবে সাহায্য করতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জগদীশচন্দ্র বসু, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসুর মতো মহান মানুষদের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল।
নারীশিক্ষা, সমাজসেবা ও জাতীয় চেতনার প্রসারে তাঁর ভূমিকা অনন্য। আজও তাঁর জীবনের আলো অনুপ্রেরণা জোগায় অসংখ্য তরুণকে।
১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবর দার্জিলিঙে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। হিন্দু রীতিতে সম্পন্ন হয় শেষকৃত্য।
আজ, তাঁর জন্মজয়ন্তীতে VSK উত্তরবঙ্গ পরিবার ভগিনী নিবেদিতাকে কোটি কোটি প্রণাম জানিয়ে তাঁর আদর্শ ও ত্যাগের কাহিনি জনমানসে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণ করেছে।




