২৮শে জুলাই, ভারতীয় সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে বড় সাফল্য মিলল জম্মু ও কাশ্মীরে। এপ্রিল মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগাঁও-এ ঘটে যাওয়া বর্বর জঙ্গি হামলার মূলচক্রী হাশিম মুসা ও আরও দুই সন্ত্রাসবাদী ‘অপারেশন মহাদেব’-এর মাধ্যমে নিকেশ করা হয়েছে।এই অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিনার কোর, যৌথভাবে সহযোগিতা করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF)। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে হাশিম মুসা ওরফে আবু সুলেমান ছিল লস্কর-ই-তইবা (LeT)-র শীর্ষ সদস্য। সে ছিল ওই হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী, যেখানে ২৬ জন নিরীহ হিন্দুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
অরণ্যে নজরদারি ও হঠাৎ সংঘর্ষে সাফল্য
‘ইন্ডিয়া টুডে’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাশিম মুসা একটি লস্কর ও জইশ-ই-মহম্মদ-এর যৌথ সেল-এর সদস্য ছিল। গত ১৪ দিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে ছিল তারা। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গোষ্ঠীতে ৫ থেকে ৭ জন সন্ত্রাসবাদী ছিল। অভিযানের দিন ভোরে সেনার ৪ প্যারা এবং ২৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস-এর সদস্যরা ডাচিগাম অরণ্যের লিডওয়াস এলাকায় একটি তাঁবুতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তিনজন সন্ত্রাসবাদীকে চিহ্নিত করে। দ্রুত আক্রমণে তাদের নিকেশ করা হয়।দুপুর ১২:৩৭ মিনিটে ড্রোন চিত্রে তিনটি মৃতদেহের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল এর মাত্র এক ঘণ্টা আগেই।

স্থানীয় সহায়তা ও গোয়েন্দা বার্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
অপারেশন মহাদেব শুরু হয়েছিল দুই দিন আগে, যখন ডাচিগাম অঞ্চলে সন্দেহভাজন স্যাটেলাইট ফোন সিগন্যাল ধরা পড়ে। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ১১ জুলাই বৈসারণ এলাকা থেকে একটি চীনা স্যাটেলাইট ফোন সক্রিয় করা হয়েছিল, যেখান থেকে ওই সিগন্যাল এসেছে বলে সন্দেহ।বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য এবং স্থানীয় বেদে জনগোষ্ঠীর সহযোগিতায় জঙ্গিদের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, নিহত তিনজন সম্ভবত মূল গোষ্ঠী থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল এবং এদিন সকালেই বিচ্ছিন্ন হয়।
কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় এটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। পাহেলগাঁও হামলার মূলচক্রী হাশিম মুসার মৃত্যু সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অভিযান চলমান রয়েছে, কারণ বাকি সদস্যদেরও খুঁজে বের করে নির্মূল করাই এখন মূল লক্ষ্য।
source: opindia




