VSK প্রতিবেদন: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আরএসএস (राष्ट्रीय स्वयंसेवक संघ)-এর শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে সংঘপ্রধান মোহন ভাগবতজী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “সংঘের পথ লোভ বা পুরস্কারের নয়, বরং সত্য, প্রেম এবং জাতীয় স্বার্থের।” ভাগবতজী হিন্দুত্ব ও ভারতীয়তার প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করে বলেন, “হিন্দুত্ব মানে দেশ ও সমাজকে শক্তিশালী করা, কিন্তু বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়। আমাদের দর্শন সবসময় সমন্বয়ের, সংকীর্ণতার নয়।”
সাত্ত্বিক প্রেমই সংঘের মূলভিত্তি
সংঘপ্রধান জানান, ড. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারজী ১৯২৫ সালে বিজয়াদশমীর দিন আরএসএসের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল—সংগঠিত হিন্দু সমাজ গঠন এবং প্রতিটি মানুষের মধ্যে জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা।ভাগবতজী বলেন, “সংঘে যোগ দিলে কিছু পাওয়া যায় না, বরং যা আছে তাও ছেড়ে দিতে হয়।” এর মাধ্যমে তিনি বোঝান, সংঘের কাজ নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিবেদিত।
স্বদেশি ও আত্মনির্ভর ভারতের ডাক
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আত্মনির্ভরতা ভারতের শক্তির ভিত্তি। বিদেশি পণ্যের প্রতি অন্ধ নির্ভরতা ছেড়ে নিজের দেশে তৈরি জিনিসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।” তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা বাণিজ্য ছিন্ন করা নয়, বরং সমতার ভিত্তিতে সহযোগিতা বজায় রাখা জরুরি।তাঁর মতে, ভাষা, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতিতে ভারতীয়তা রক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধর্মীয় অবমাননা হলে আইন ও প্রশাসনের আশ্রয় নেওয়া উচিত, সহিংসতা নয়।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা ও ভারতীয় সমাধান
ভাগবতজী বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আজ বিশ্ব চরম ভোগবাদ, প্রতিযোগিতা ও অসহিষ্ণুতার ফাঁদে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরও স্থায়ী শান্তি আসেনি। এখন পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক।”তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি মানুষ শুধু ভোগ আর ক্ষমতার জন্য ছুটতে থাকে, তাহলে বিশ্ব ধ্বংসের মুখে পড়বে। এই সংকট থেকে মুক্তির পথ ভারতীয় দর্শনেই, যা বলে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—পুরো পৃথিবী এক পরিবার।”
ধর্মের প্রকৃত অর্থ ও বিশ্বশান্তি
ভাগবতজীর মতে, ধর্ম মানে কেবল পূজা-পাঠ নয়; ধর্ম হলো এমন জীবনপথ, যা মানুষকে সামঞ্জস্য ও মুক্তির দিকে নিয়ে যায়। ধর্মের আসল কাজ মানুষকে একত্র করা, বিভাজন নয়। তিনি বলেন, “কনভার্সন ধর্মের কাজ নয়। বরং বিশ্বশান্তির জন্য প্রয়োজন সমন্বয় ও সহিষ্ণুতা।”
হিন্দুত্ব ও ভারতীয়তার বার্তা
সংঘপ্রধান বলেন, হিন্দুত্ব মানে জীবনের এক সমন্বিত দর্শন—যা সত্য, প্রেম ও করুণার ওপর ভিত্তি করে। এটি কারও ওপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য নয়, বরং সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার শিক্ষা দেয়।
তিনি যোগ করেন, “আজ বিশ্ব যে অশান্তি ও সংঘাতের মুখোমুখি, তার সমাধান ভারতীয় দর্শনেই আছে। ভারত যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে বিশ্বকেও শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ দেখাতে পারবে।” ভাগবতজী আরও জানান, সংঘের কাজ কেবল হিন্দুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর লক্ষ্য সমাজ ও সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ। যুবসমাজকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সংঘের আদর্শ বুঝুন, সমাজের অশুভ শক্তি দূর করুন, এবং আত্মনির্ভর ভারত গড়ে বিশ্বকে নতুন দিশা দিন।”





