VSK প্রতিবেদন: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রবুদ্ধ সমাবেশে সংঘ প্রধান বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করলেন—আরএসএস কী, কেন গঠিত হয়েছে এবং সমাজে তার ভূমিকা ঠিক কী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সংঘের নাম সবাই জানে, কিন্তু কাজ ও দর্শন অনেকেই জানেন না। নাম জানা আর কাজ জানা—এই দুইয়ের মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে।”
বক্তব্যে জানানো হয়, এই কর্মসূচি ইতিমধ্যেই দেশের দুই শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে, এটি তৃতীয় পর্ব এবং চতুর্থ পর্ব মুম্বাইয়ে আয়োজিত হবে। শতবর্ষ উদযাপনের প্রেক্ষাপটে সংঘ সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা ভাঙাই এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।
মোহন ভাগবতজী বলেন, সংঘ কোনও রাজনৈতিক দল নয়, কোনও পরিষেবা সংস্থাও নয়, আবার কোনও আধাসামরিক সংগঠনও নয়। তিনি বলেন, “গণবেশ দেখে কেউ যদি আমাদের প্যারামিলিটারি ভাবেন, তা যেমন ভুল, তেমনই লক্ষাধিক স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে চলা সেবা কার্যক্রম দেখে সংঘকে শুধুই একটি সার্ভিস অর্গানাইজেশন বলা আরও বড় ভুল।” একইভাবে সংঘকে বিজেপির সঙ্গে এক করে দেখার প্রবণতাকেও তিনি বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যা দেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘকে বোঝার জন্য তুলনার পথ কার্যকর নয়, কারণ সংঘের মতো আর কোনও সংগঠন নেই। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আকাশকে বোঝাতে হলে আকাশের সঙ্গেই তুলনা করতে হয়—অন্য কিছু দিয়ে নয়। তেমনই সংঘকে বুঝতে হলে সংঘ হিসেবেই জানতে হবে।”
বক্তব্যে উঠে আসে সংঘ সম্পর্কে চলমান ‘ভুল ন্যারেটিভ’ ও দীর্ঘদিনের কুপ্রচারের প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, সংঘের কোনও শত্রু নেই, কিন্তু সংঘের বিস্তারে যাদের স্বার্থে আঘাত লাগে, তারাই মিথ্যা প্রচার চালায়। এর ফলেই সাধারণ মানুষের মনে ভয় ও সংশয় তৈরি হয়, যার কারণে অনেকেই সংঘকে কাছ থেকে জানার সুযোগ পান না।
সংঘের জন্মকথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বক্তা বলেন, ১৮৫৭ সালের পর ভারতের সামনে তিনটি প্রধান ধারা কাজ করেছিল—সশস্ত্র বিপ্লব, রাজনৈতিক গণজাগরণ এবং সমাজ সংস্কার। এই সব ধারার অভিজ্ঞতা থেকেই ডা. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার উপলব্ধি করেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব কেবল সমাজের ঐক্য ও চরিত্র গঠনের মাধ্যমে। সেই চিন্তা থেকেই ১৯২৫ সালের বিজয়া দশমীতে আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠা।
তিনি স্পষ্ট করেন, “সংঘ কোনও প্রতিক্রিয়া নয়, কোনও প্রতিযোগিতা নয় এবং কারও বিরোধিতার জন্য নয়। সংঘের জন্ম হয়েছে সমাজকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে।” তাঁর ভাষায়, ভারতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে হলে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে স্বার্থ, বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা কমে গিয়ে শৃঙ্খলা, ঐক্য ও গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।
শাখা পদ্ধতির ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, প্রতিদিনের এক ঘণ্টার শাখা আসলে “নিজের জন্য নয়, জাতির জন্য ব্যায়াম।” সেখানে রাজনীতি, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে দেশের জন্য ভাবার মানসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই ব্যক্তি গঠন থেকেই দেশজুড়ে কর্মীবাহিনী তৈরি হয়, যা সমাজ পরিবর্তনের ভিত গড়ে তোলে।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “ভারত শুধু একটি ভৌগোলিক সত্তা নয়—ভারত একটি চেতনা, একটি পরম্পরা। সেই পরম্পরা বজায় রেখে ভারতকে আবার বিশ্বগুরুর আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে সমাজকে প্রস্তুত করাই সংঘের মূল লক্ষ্য।”
এই শতবর্ষের কর্মসূচির মাধ্যমে সংঘ সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করে বাস্তব অবস্থান সমাজের সামনে তুলে ধরাই আয়োজকদের প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।





