আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) প্রকাশিত বিশ্ব সামাজিক সুরক্ষা রিপোর্টে উঠে এসেছে এক ঐতিহাসিক তথ্য—ভারত সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বিশাল লাফ দিয়েছে। ২০২৫ সালে ভারতের ৬৪.৩% জনগণ এই সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এসেছে, যেখানে ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৯%। সংখ্যাগত দিক থেকে, বর্তমানে ৯৪ কোটিরও বেশি ভারতবাসী এই সুরক্ষার ছাতার নিচে রয়েছেন।
ভারতের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী মানসুখ মাণ্ডব্য এই রিপোর্ট প্রসঙ্গে বলেন, “ভারতের সামাজিক সুরক্ষা কাভারেজে এই অগ্রগতি বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততর।” তিনি আরও জানান, “দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি ও ‘সবার বিকাশ’-এর লক্ষ্যেরই প্রতিফলন।”
শ্রমমন্ত্রী মানসুখ মাণ্ডব্য সম্প্রতি জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের ১১৩তম অধিবেশনে ILO-র মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হুংবো-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, “গত ১১ বছরে মোদি সরকার দরিদ্রদের জন্য একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে, যা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে মজবুত করেছে।”
ILO, জাতিসংঘের অধীন একটি সংস্থা, যা শ্রমিকদের অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করে। সংস্থাটি বিভিন্ন সদস্য দেশের সামাজিক সুরক্ষা কাভারেজ মূল্যায়ন করে। এ মূল্যায়ন ৯টি প্রধান শ্রেণিতে করা হয়—বেকার ভাতা, পরিবার ও শিশু সহায়তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বার্ধক্য পেনশন, কর্মসংস্থানকালীন দুর্ঘটনা বীমা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, প্রতিবন্ধী সহায়তা, অসুস্থতাকালীন আয় পুনরুদ্ধার সুবিধা এবং মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য সহায়তা।
ILO-র স্বীকৃতি পেতে, কোনো দেশের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অবশ্যই আইনগত ভিত্তি থাকতে হবে, সক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত হতে হবে এবং অন্তত গত তিন বছরের ভেরিফায়েড তথ্য সহ উপস্থাপন করতে হবে।
বিশ্বের এই মূল্যায়নে ভারতের এই অগ্রগতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।




