???? VSK প্রতিবেদন :
“আত্মনির্ভর হতে হলে আগে জানতে হবে, আমরা কারা” — এই গভীর উপলব্ধিতে আত্মবিশ্বাসের সুরে ভরিয়ে দিয়ে দেশের মানুষকে আত্মজাগরণের বার্তা দিলেন আরএসএসের সরসংঘচালক ডঃ মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, আজ ভারতের সামনে সুযোগ এসেছে আবার আত্মনির্ভর হয়ে উঠবার। এর জন্য চাই আমাদের ‘স্ব’-বোধ, অর্থাৎ নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস ও আত্মাকে সম্পূর্ণভাবে চেনা ও উপলব্ধি করা।
এই বক্তব্য তিনি রাখেন ডঃ হেডগেওয়ার আন্তর্জাতিক গুরুকুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, যা অনুষ্ঠিত হয় রামটেকের কালিদাস সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিনব ভারতী আন্তর্জাতিক শৈক্ষিক প্রাঙ্গণে। এই গুরুকুলের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিস, শিক্ষামন্ত্রী চন্দ্রকান্ত পাটিল সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
???? স্বত্ব যেখানে, সেখানেই শক্তি ও সমৃদ্ধি
ডঃ ভাগবতজী বলেন, “যেখানে স্ব থাকে, সেখানেই বল, শক্তি ও লক্ষ্মীর বসবাস। কিন্তু আমরা যখন নিজেদের ভুলে গিয়েছি, তখনই পতন শুরু হয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, প্রাচীনকাল থেকে ভারত বিশ্বের অগ্রগণ্য সভ্যতা ছিল। ১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬০০ সাল পর্যন্ত ভারত বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শীর্ষে ছিল। কিন্তু পশ্চিমী দৃষ্টিভঙ্গি ও ঔপনিবেশিক শিক্ষা আমাদের আত্মপরিচয়কে নষ্ট করেছে।


????️ ভাষা: স্ব-বোধের বাহক
তিনি বলেন, “ভাষা হল আমাদের স্বভাব ও সংস্কৃতির প্রকাশ। সমাজের ভাব অনুযায়ী ভাষার গঠন হয়। পশ্চিমে যেখানে বাজার ও ভোগের চিন্তা, সেখানে আমরা দিয়েছি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’-এর আদর্শ।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংস্কৃত ভাষার মাধ্যমে আমরা আমাদের মূল সত্তাকে জানি। এই ভাষার বিস্তার হলে ভারতীয়ত্ব আরও গভীরে গেঁথে যাবে মানুষের মনে।
???? সংস্কৃতকে দিন জীবনের ভাষার মর্যাদা
সংস্কৃতকে শুধুমাত্র শাস্ত্রীয় ভাষা নয়, জীবনের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা দরকার — এমনই অভিমত সরসংঘচালকজীর। তিনি বলেন, “সংস্কৃত জানলে ভারতকে চেনা যায়। এটি অনেক ভাষার উৎস, শব্দের ভাণ্ডার ও ভাবের আধার। এর চর্চা হলে ভারতের আত্মপরিচয়ও পুনরুজ্জীবিত হবে।”
তিনি জানান, রাজ আশ্রয় ও জন আশ্রয়—দুটোই চাই সংস্কৃতের বিকাশে। কেবল বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পরিবার, সমাজ ও স্কুল স্তরেও এর বিস্তার দরকার।
???? ভারত যে আত্মনির্ভর হবে, তা শুধুই প্রযুক্তি ও অর্থনীতির উপর নির্ভর করে না। এর শিকড় রয়েছে তার আত্মা, আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতিতে।
আজকের বিশ্বে আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন তখনই সফল হবে, যখন ভারত তার ‘স্ব’-কে চিনবে, ধারণ করবে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে তা শেখাবে।
“আত্মনির্ভর ভারত” কেবল একটা অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়—এটা হল একটি সাংস্কৃতিক ও আত্মিক পুনর্জাগরণের অভিযান।
???? সেই অভিযানের প্রথম পদক্ষেপ হল: নিজেকে চেনা।




