VSK প্রতিবেদন: গত বছর পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর সুরে কথা বলা চীন এবার হঠাৎ করেই অবস্থান পাল্টে ভারতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ট্যারিফ নীতির বিরুদ্ধে চীন ভারতের প্রতি সমর্থনের জোরালো বার্তা দিয়েছে। মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধিকে সরাসরি “অর্থনৈতিক ভয় দেখানো” বলে আখ্যা দিয়ে বেইজিং জানিয়েছে, “চীন ভারতের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে থাকবে।” ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং বৃহস্পতিবার এক সেমিনারে বলেন, “আমেরিকা বহু বছর ধরে মুক্ত বাণিজ্যের সুবিধা নিয়েছে। কিন্তু এখন ট্যারিফকে অস্ত্র বানিয়ে ব্যবহার করছে। চুপ থাকলে কেবল হুমকিদাতার সাহস বাড়বে। ভারতকে সমর্থন করাই এখন সুবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ।” এই বক্তব্য তিনি রাখেন চিন্তন রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং সেন্টার ফর গ্লোবাল ইন্ডিয়া ইনসাইটস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে। সেখানে ফেইহং বলেন, “ভারত ও চীন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা উচিত।”
ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি নিয়ে চীনের তীব্র সমালোচনা
গুরুত্বপূর্ণ যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক বসানোর ঘোষণা করেছেন। এর আগে ২৫% ট্যারিফ কার্যকর করা হয়েছিল ৭ আগস্ট থেকে, পরে আরও ২৫% বাড়ানো হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভারত রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনে বিপুল মুনাফা করছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই চীন আমেরিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেছে, “এই নীতি একতরফা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।” ফেইহং আরও বলেন, “আমেরিকা বিভিন্ন দেশকে চাপে ফেলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে চাইছে। ভারতকে দেওয়া শুল্ক বাড়ানো সেই নীতির অংশ।” তিনি আশ্বাস দেন যে, চীন ভারতকে WTO-তে সমর্থন করবে।
হাতি-ড্রাগনের’ নতুন বন্ধুত্বের বার্তা
বিগত সময়ে ভারতকে নিয়ে সমালোচনায় মুখর থাকা চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস এখন সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। ৬ আগস্ট ২০২৫-এ গ্লোবাল টাইমস একটি মতামত (অপিনিয়ন) প্রকাশ করেছিল। এর শিরোনাম ছিল— “ভারত কেন ‘বিদেশি বিনিয়োগের কবরস্থান’ তকমা মুছে ফেলতে পারছে না?” এই লেখায় যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, পশ্চিমা মিডিয়া যে ‘চীন ও ভারতের মধ্যে কে কাকে প্রতিস্থাপন করবে’— এই বয়ান ছড়াচ্ছে, তা আসলে ভিত্তিহীন। চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং এক্স (টুইটার)-এ হাতি ও ড্রাগনের বন্ধুত্বের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “আজকের সময়ে সহযোগিতা বাড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ।”
সীমান্ত থেকে বিনিয়োগ পর্যন্ত সম্পর্ক মজবুতের উদ্যোগ
চীন সম্প্রতি WMCC গঠন করে সীমান্ত সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আবার সীমান্ত হাট পুনরায় খোলা এবং নদীর তথ্য বিনিময়ের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ফেইহং বলেন, “ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের জন্য কৈলাস যাত্রা আবার শুরু হয়েছে। ভারতও চীনা নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু করেছে।” এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী সপ্তাহে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন। ২০১৮ সালের পর এটাই হবে তাঁর প্রথম চীন সফর। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমান এই পরিবর্তনকে “কৌশলগত পুনর্বিন্যাস” হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার অর্থনৈতিক চাপ এশিয়ার দুই বৃহৎ শক্তিকে আবারও কাছাকাছি আনছে।ভারত-চীনের এই নতুন উষ্ণতা কি দীর্ঘমেয়াদি হবে নাকি শুধু আমেরিকার চাপের কারণে সাময়িক? আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির অঙ্কে এই সমীকরণই সবচেয়ে বড় কৌতূহল তৈরি করেছে।




