শিকাগো ধর্ম মহাসভায় স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক ভাষণ : আজকের দিনেই বিশ্বকে চিনিয়েছিলেন ভারতের আত্মা

SHARE:

[responsivevoice_button voice="Hindi Female"]

VSK প্রতিবেদন: ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনটি চিরস্মরণীয়। ১৮৯৩ সালের এই দিনে আমেরিকার শিকাগো শহরে বিশ্ব ধর্ম মহাসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক তরুণ ভারতীয় সন্ন্যাসী, মাত্র ৩০ বছর বয়সে, পৃথিবীকে শোনালেন ভারতের আত্মার বাণী। তিনি ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। তাঁর উচ্চারণ করা প্রথম শব্দ “আমার আমেরিকান ভ্রাতা ও ভগ্নীগণ”– এভাবেই বিশ্ববাসীর সামনে ভারতের আধ্যাত্মিক মহিমা নতুনভাবে উদ্ভাসিত হয়েছিল।

ভাষণের শুরুতেই হলভর্তি মানুষ বজ্রতালিতে মুখর হয়ে উঠেছিল। স্বামীজি বলেছিলেন,
“আপনারা যে আন্তরিক স্নেহ ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে আমাদের গ্রহণ করেছেন, তার জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞ। আমি সেই প্রাচীনতম সন্ন্যাসী-সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হয়ে কৃতজ্ঞতা জানাই, আমি সকল ধর্মের জননী ভারতবর্ষের প্রতিনিধি হয়ে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা কেবল সহিষ্ণুতা নয়, বরং সকল ধর্মকে সত্য বলে মেনে নিয়েছি।”

স্বামীজি গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন, ভারত সেই দেশ যেখানে যুগে যুগে নির্যাতিত, শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়েছিলেন ইহুদিদের,  যাদের ভারত এখনো বুকে ধারণ করে রেখেছে।

তাঁর কণ্ঠে গীতা ও উপনিষদের বাণী প্রতিধ্বনিত হয়েছিল। স্বামীজি বলেছিলেন—
“যেমন ভিন্ন ভিন্ন নদী নানা উৎস থেকে এসে সমুদ্রে মিশে যায়, তেমনি নানা পথ দিয়ে চলা মানুষও শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের কাছেই পৌঁছে যায়।”

তাঁর ঐতিহাসিক বার্তা ছিল সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, মানবসভ্যতাকে ধ্বংস করা এই অন্ধকার শক্তির দিন শেষ। সেই ধ্বনিই যেন শিকাগো মহাসভার ঘণ্টাধ্বনির মতো প্রতিধ্বনিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্বে।

স্বামী বিবেকানন্দের এই ভাষণ ভারতকে বিশ্ব মানচিত্রে এক নতুন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করেছিল। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরে আজও তাঁর সেই অগ্নিবাণী কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

আজকের এই দিনে আমরা স্মরণ করি সেই সন্ন্যাসীকে, যিনি প্রমাণ করেছিলেন— ভারত শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, ভারত এক চিরন্তন আত্মার পরিচয়।

[the_ad id='179']

Leave a Comment

सबसे ज्यादा पड़ गई