VSK প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতির উদ্দেশে ভাষণে এক নতুন শব্দবন্ধকে সামনে আনলেন—“নিও মিডল ক্লাস” বা নব মধ্যবিত্ত। তিনি জানান, গত ১১ বছরে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছেন এবং আজ তারা ভারতের ভেতরে একটি নতুন সামাজিক-অর্থনৈতিক শ্রেণি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন।
কী এই নব মধ্যবিত্ত?
এটি এমন এক শ্রেণি, যারা সম্প্রতি দারিদ্র্যের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে এসেছে, তবে এখনও স্থিতিশীল ও নিরাপদ মধ্যবিত্ত স্তরে পৌঁছায়নি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে যারা আয় করছে, অথচ প্রথাগত মধ্যবিত্তের মতো সুরক্ষা বা স্থায়িত্ব নেই, তারাই এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
প্রথমবার এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন মোদী নিজেই ২০১2 সালে, যখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। সেসময় নির্বাচনী ইশতেহারে এই শ্রেণিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়।
ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ অ্যাপ্লায়েড ইকোনমিক রিসার্চ (NCAER)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অর্থনৈতিক সংস্কারের পর (১৯৯০ থেকে) এই শ্রেণির পরিসর বাড়তে শুরু করে। মোদী সরকার আসার পর সেই গতি বহুগুণ বেড়েছে। নীতি আয়োগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৩-১৪ থেকে ২০২২-২৩-এর মধ্যে ২৪.৮২ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে।
পুষ্টি অভিযান, অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত, প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, সৌভাগ্য প্রকল্প, স্বচ্ছ ভারত মিশন ও জল জীবন মিশন—এসব প্রকল্পের ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী শুধু বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নয়, সামাজিক অগ্রগতির পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
ভারতের লক্ষ্য, ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তিতে ভারতকে “উন্নত ভারত”-এর মর্যাদা দেওয়া।প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই নব মধ্যবিত্তই হবে সেই স্বপ্ন পূরণের চালিকাশক্তি।কারণ সহজ—যখন কোনো পরিবার দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পায়, তাদের আয় বাড়ে এবং ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এই ক্রয়ক্ষমতা বাজারে নতুন গতি আনে, যা আবার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। এর পাশাপাশি নতুন আত্মবিশ্বাসী নাগরিকগোষ্ঠী সমাজে স্থিতি আনে এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও প্রযুক্তির সহজপ্রাপ্যতা নব মধ্যবিত্তকে আরও দৃঢ় করছে। আজ তারা UPI-এর মতো ডিজিটাল পেমেন্টে অভ্যস্ত হচ্ছে, স্টার্টআপ ইন্ডিয়া ও মুদ্রা লোনের সুযোগ নিয়ে ব্যবসা শুরু করছে এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন রক্ত সঞ্চার করছে।
বিকশিত দেশগুলিতে শক্তিশালী মধ্যবিত্তই অর্থনীতির মেরুদণ্ড। ভারতের ক্ষেত্রেও নব মধ্যবিত্ত সেই ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। যদি এদের সংখ্যা ও শক্তি ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তবে ভারত কেবল অভ্যন্তরীণ বাজারেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এক বিশাল শক্তি হয়ে উঠবে।
আগস্ট ২০২৪-এর শিল্প সম্মেলন থেকে শুরু করে আজকের জাতির উদ্দেশে ভাষণ পর্যন্ত মোদী বারবার এই শ্রেণির গুরুত্বের কথা বলছেন। যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—নব মধ্যবিত্তই উন্নত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান ভরকেন্দ্র।




