VSK প্রতিবেদন: ভারতের রাজনীতিতে আবারও জোরালো বিতর্কের ঝড়। কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের এক চিঠি ঘিরে নতুন করে জেগে উঠেছে তথাকথিত “সাংঘাতিক আতঙ্ক”। চিঠিতে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়াহকে উদ্দেশ্য করে তিনি দাবি করেছেন—সরকারি স্কুল, কলেজ, পার্ক ও মন্দিরে আরএসএস-এর শাখা ও কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হোক।
৪ অক্টোবর লেখা এই চিঠি ১২ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশ্যে আনা হয়। খাড়গের দাবি, আরএসএস-এর কার্যকলাপ শিশু ও তরুণদের মনে বিভাজনমূলক চিন্তা ঢুকিয়ে দিচ্ছে, যা সংবিধানের ঐক্য ও সমতার বিরোধী। মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের প্রধান সচিব শালিনী রাজনিশকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কর্ণাটক সরকারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকেও সামনে এনেছে। অনেকেই বলছেন, ডি.কে. শিবকুমার ও সিদ্ধারামাইয়াহর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রিত্বের বিরোধের মধ্যে এই চিঠি যেন এক ঢিলে দুই পাখি—রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দিকেও তীর, আবার জনমতের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোও হলো।
আরএসএস-এর ইতিহাস: তিনবার নিষিদ্ধ, তবুও অটল সংগঠন
১৯২৫ সালে পরমপূজনীয় ড. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার নাগপুরে আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থার লক্ষ্য ছিল সমাজসংগঠন, শৃঙ্খলা ও দেশভক্তি বিকাশ। স্বাধীনতার পর কংগ্রেস সরকার তিনবার এটিকে নিষিদ্ধ করেছে—
-
১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধীর হত্যার পর
-
১৯৯২ সালে বাবরি ধাঁচা ধ্বংসের পর
তবে প্রতিবারই আদালত বা জনচাপের মুখে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। প্রতিটি প্রবল বাধা পেরিয়ে আরএসএস আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে।
২০২4 সালে কেন্দ্রীয় সরকার সরকারি কর্মচারীদের ওপর আরোপিত সংঘ-সম্পৃক্ত নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লক্ষেরও বেশি শাখা ৫০ হাজারেরও বেশি স্থানে সক্রিয়।
বাম-সেক্যুলার ফ্রন্টের প্রতিবাদ ও প্রচারণা
সাম্প্রতিক কালে সোশ্যাল মিডিয়ায় #BanRSS ট্রেন্ড করছে। বামপন্থী গ্রুপ, কিছু ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন ও ইসলামপন্থী দলগুলির অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। কিছু প্রভাবশালী হ্যান্ডেল থেকে “সংঘ ফ্যাসিবাদী সংগঠন” বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রচারণা মূলত ভোটব্যাঙ্ক-নির্ভর রাজনীতির অংশ এবং ষড়যন্ত্র কারণ গ্রামীণ এলাকাগুলিতে সংঘের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। এক তরুণের আত্মহত্যার ঘটনায় আরএসএস-এর বিরুদ্ধে শোষণের অভিযোগ ওঠে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তদন্তে জানা গেছে, মৃত তরুণের সঙ্গে সংঘের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ছিল না। রাজনৈতিক মহল বলছে, এটি আরেকটি প্রচারণার অংশ মাত্র।কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রশ্লাদ জোশি বলেছেন, “নেহরু থেকে সোনিয়া—সবাই নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল, কেউ পারেনি। প্রিয়াঙ্ক খাড়গে-ও ব্যর্থ হবেন।”
কর্ণাটক বিজেপি সভাপতি ভি.ওয়াই. বিজয়েন্দ্রর বক্তব্য, “আরএসএসের জনপ্রিয়তা কংগ্রেস সহ্য করতে পারছে না। তাই এই নাটক।”
‘ফিনিক্স’ হয়ে উঠছে সংঘ
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় সমাজে আরএসএস তার সামাজিক ভূমিকা দিয়ে ইতিমধ্যেই গভীর প্রভাব ফেলেছে—দুর্যোগে স্বেচ্ছাসেবা, দারিদ্র্য নিরসন থেকে শুরু করে নারী ও আদিবাসী উন্নয়ন পর্যন্ত। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করাই সংঘের শক্তি, যা ক্রমেই প্রতিপক্ষ শক্তিকে অস্বস্তিতে ফেলছে।
এক রাজনৈতিক মন্তব্যকারীর ভাষায়, “এটা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি—যখনই সংঘকে রুখতে চাওয়া হয়, ঠিক তখনই সে নতুন রূপে ও আরও শক্তিশালী রূপে উঠে আসে। আবারও সেই ফিনিক্সের মতো আকাশে ওড়া প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।





