VSK প্রতিবেদন: কলকাতায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবতজী রবিবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, ভারত ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে একটি “হিন্দু রাষ্ট্র”—সংবিধানের ভাষায় কী লেখা আছে, তা নির্বিশেষে। তাঁর মতে, ভারতের এই পরিচয় আইনগত অনুমোদন থেকে নয়, বরং দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাস থেকেই গড়ে উঠেছে।
আরএসএস-এর শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ‘১০০ ব্যাখ্যান মালা’ সিরিজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত জী বলেন, “সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে—এর জন্য কি আমাদের সংবিধানের অনুমোদন লাগে? ঠিক তেমনই, হিন্দুস্তান একটি হিন্দু রাষ্ট্র।” তিনি আরও বলেন, যতদিন এই ভূমিতে এমন একজন মানুষও থাকবেন যিনি ভারতকে নিজের মাতৃভূমি মনে করেন এবং ভারতীয় সংস্কৃতি ও পূর্বপুরুষদের গৌরবকে সম্মান করেন, ততদিন ভারত হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবেই থাকবে—এটাই সংঘের আদর্শ।
সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রসঙ্গ টেনে ভাগবতজী বলেন, ১৯৫০ সালে গৃহীত মূল প্রস্তাবনায় “ধর্মনিরপেক্ষ” বা “সেকুলার” শব্দটি ছিল না। ১৯৭৬ সালে জরুরি অবস্থার সময়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমলে সংবিধানের ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে “সোশ্যালিস্ট” ও “সেকুলার” শব্দ দুটি যোগ করা হয়। তাঁর বক্তব্য, “সংসদ যদি ভবিষ্যতে সংবিধানে এই শব্দ রাখে বা না রাখে—আমাদের তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা হিন্দু, আর আমাদের দেশ হিন্দু রাষ্ট্র—এটাই সত্য।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে জন্মভিত্তিক জাতপাত ব্যবস্থা হিন্দুত্বের পরিচয় নয়।
আরএসএস-বিরোধী সমালোচনার প্রসঙ্গে মোহন ভাগবতজী বলেন, সংগঠনটিকে অনেকেই এখন জাতীয়তাবাদী ও হিন্দুদের সুরক্ষায় সচেষ্ট বলে মনে করেন, কিন্তু মুসলিম-বিরোধী বলে নয়। যাঁদের মনে এখনও সন্দেহ রয়েছে, তাঁদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান—আরএসএস-এর কার্যালয় ও দৈনিক শাখায় এসে নিজের চোখে কাজকর্ম দেখে নেওয়ার জন্য।
ভাগবতজী বলেন, “আমাদের কাজ স্বচ্ছ। যে কেউ চাইলে এসে দেখতে পারেন। যদি সত্যিই মুসলিম-বিরোধী কিছু দেখেন, তাহলে নিজের মত রাখুন। আর যদি না দেখেন, তাহলে মত বদলান।” তাঁর দাবি, অনেকেই সরাসরি সংঘের কাজ দেখার পর নিজেদের ধারণা পরিবর্তন করেছেন।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে মোহন ভাগবতজী আবারও স্পষ্ট করেন যে আরএসএস-এর দৃষ্টিতে ভারতের ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ধারণা সংবিধানের শব্দচয়নের ওপর নয়, বরং সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতেই দাঁড়িয়ে আছে।




