VSK প্রতিবেদন: ১৫ই আগস্ট ভারত তার ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে। এই স্বাধীনতার পেছনে লুকিয়ে আছে অসংখ্য শহীদদের আত্মত্যাগের কাহিনি—যাঁদের অনেকের নাম ইতিহাসে উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা, আবার বহু বীরের নাম প্রায় বিস্মৃত। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন উনাকান্ত কড়িয়া, যিনি ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর (Quit India Movement) প্রথম বলিদানী হিসেবে ইতিহাসে অমর হলেও জনস্মৃতিতে তাঁর পরিচিতি আজও সীমিত।
১৯৪২ সালের ৮ই আগস্ট মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল ভারত ছাড়ো আন্দোলন। সে সময় সমগ্র বিশ্বে চলছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, আর ভারত তীব্র সংগ্রামে নেমেছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে। গান্ধীজি আহ্বান জানান—“ভারত ছাড়ো”, আর এই ডাক মুহূর্তেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ৯ই আগস্ট, আহমেদাবাদেও শুরু হয় প্রতিবাদ। ইংরেজরা কংগ্রেস নেতাদের গ্রেফতার করছিল, তবুও মানুষ থামেনি। রাস্তায় রাস্তায় মিছিল, সভা, আন্দোলনের জোয়ার। তখনই উঠে আসে এক তরুণের নাম—উনাকান্ত মোতীরাম কড়িয়া। বয়স মাত্র ২১ বছর। আহমেদাবাদের দরিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা উনাকান্ত ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সক্রিয় স্বয়ংসেবক এবং শাখার প্রধান শিক্ষক।
৯ই আগস্টের আন্দোলনে উনাকান্ত ছিলেন সবার সামনে। তাঁকে পিছু হটার জন্য বলা হলেও তিনি দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন। ইংরেজ সেনারা যখন গুলি চালাল, একটি গুলি সোজা তাঁর কপালে লাগে। মুহূর্তেই শহীদ হন এই তরুণ বিপ্লবী। এভাবেই উনাকান্ত কড়িয়া হয়ে ওঠেন ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রথম বলিদানী।
আজ যেখানে এই ঘটনা ঘটেছিল, আহমেদাবাদের খাড়িয়া অঞ্চলে, সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে—যেখানে খোদাই করা আছে উনাকান্তের আত্মত্যাগের কাহিনি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ভারতের প্রথম বলিদানী হিসেবে নয়, তাঁকে কেবল ‘গুজরাটের প্রথম বলিদানী’ হিসেবে ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
स्वाधीनता आंदोलन में 9/8/1942 के दिन #RSS की शाखा के मुख्य शिक्षक, अपने माता-पिता के एकमात्र पुत्र ऐसे श्री उमाकांत कडियाने 1942 'भारत छोडो आंदोलन' में बलिदान' दिया, उस उनके साथ 14 वर्ष के चिनुदादा आज वीर बलिदानी उमाकांत की बात बताते है। @vskgujarat @editorvskbharat @RSSorg pic.twitter.com/aee5B7WGML
— Devendra Kumar (@23_devendra) August 10, 2025
উনাকান্তের পরের দিন, ১০ই আগস্ট, ল’ কলেজের ছাত্রদের মিছিলে আরেক বীর বিনোদ কিনারিওয়ালা প্রাণ দেন। ত্রিবর্ণ পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করতেই ইংরেজ অফিসারের গুলিতে তিনি শহীদ হন।
উনাকান্ত কড়িয়ার বলিদান প্রমাণ করে যে, স্বাধীনতার সংগ্রামে RSS-এর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, কংগ্রেস ও বামপন্থী চিন্তাধারা সেই অবদানকে প্রায় অস্বীকার করেছে। অথচ RSS-এর অসংখ্য স্বয়ংসেবক দেশকে মুক্ত করতে প্রাণের বিনিময়ে লড়াই করেছেন।
আজ যখন আমরা ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছি, তখন উনাকান্ত কড়িয়া ও তাঁর মতো অজানা বীর শহীদদের স্মরণ করাই সত্যিকারের দেশপ্রেম। কারণ স্বাধীনতার রক্তিম ইতিহাস শুধু বড় নামের নয়, সেই সব অজ্ঞাত বীরদের ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে যাঁরা দেশকে প্রিয়তম ভেবে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন।
source: Opindia




