VSK প্রতিবেদন: ১৪ আগস্ট—এই তারিখ কোনো হিন্দুরই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। ১৫ আগস্টকে আমরা স্বাধীনতার দিন হিসেবে উদযাপন করি, কিন্তু স্বাধীনতার ঠিক একদিন আগে কী ঘটেছিল তা জানি কি? ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারতবর্ষের ইতিহাসে লিখিত হয়েছিল বিভীষিকার এক কালো অধ্যায়। ধর্মের নামে দেশভাগের অগ্নিকুণ্ডে লক্ষ লক্ষ হিন্দুর রক্ত ঝরেছিল, অগণিত মা-বোনের সম্ভ্রম লুন্ঠিত হয়েছিল, কোটি কোটি মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।
সেদিন কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা টানা হয়নি, ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়েছিল ভারতমাতার বক্ষ। পাকিস্তান নামের ইসলামিক রাষ্ট্র তৈরির জন্য জিন্নার জেদ, নেহরুর ক্ষমতালিপ্সা আর গান্ধীর উদাসীনতা মিলে এক ভয়াবহ হত্যালীলার সূচনা হয়েছিল। দিল্লির লুটিয়েন জোনে যখন ক্ষমতার আনন্দে শ্যাম্পেনের বোতল খোলা হচ্ছিল, তখন রাওয়ালপিন্ডি, লাহোর, করাচি, পাঞ্জাব, সিন্দ, বাংলা আর বিহারের রাস্তায় চলছিল হিন্দু নিধন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ আর অমানবিক বর্বরতা।
এই বিভাজন কেবল ভূমির ছিল না, ছিল হৃদয়েরও। সেই সময়ের দৃশ্য ছিল শিউরে ওঠার মতো—লাশভর্তি ট্রেন, রক্তে রঞ্জিত রেললাইন, কান্নায় ভেঙে পড়া গৃহহারা মানুষ। ৫ বছরের শিশুকন্যা থেকে শুরু করে ৮০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত কোনো নারীকে রেহাই দেয়নি উন্মত্ত জেহাদিরা। এমনকি রাস্তার মোড়ে মোড়ে প্রকাশ্যে চলেছিল গণধর্ষণ। স্বাধীনতার উল্লাসের আড়ালে ছিল মৃত্যুর মিছিল।
২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন ১৪ আগস্টকে ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। তাঁর কথায়, “এই দিনটি শুধু শোকের নয়, ঐক্য ও মানবতার সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি নেওয়ার দিন। এটি সেই অসংখ্য মানুষকে স্মরণ করার দিন, যারা অদম্য সাহস নিয়ে জীবনকে নতুন করে গড়ে তুলেছিলেন।”
সারা দেশে এই উপলক্ষে স্মরণসভা, প্রদর্শনী ও আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবীণ সাক্ষীরা তাঁদের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা ভাগ করেছেন তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে, যাতে ইতিহাস পুনরাবৃত্তি না হয়।
আজ যখন ভারত স্বাধীনতার ৭৭তম বর্ষ উদযাপন করছে, তখন আমাদের মনে রাখতে হবে—অতীতের সেই অমানবিক রাত কেবল ইতিহাস নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা। ধারা ৩৭০ অপসারণ হয়েছে, ৪৯২ বছরের লড়াই শেষে অযোধ্যায় রামমন্দির গড়েছে—তাহলে একদিন অখণ্ড ভারত গড়ার স্বপ্নও বাস্তব হতে পারে। তবে তা হবে তখনই, যখন আমরা ১৪ আগস্টের সেই বিভীষিকাকে কখনও ভুলব না।
প্রতিজ্ঞা হোক—১৪ আগস্টের দুঃসহ স্মৃতি আমাদের ঐক্যের শপথ জাগাবে, আর ভারতমাতাকে আর কখনও টুকরো হতে দেব না। জয় হিন্দ!
VSK উওরবঙ্গ পরিবার স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে সকল দেশবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছে—বিভাজনের বিভীষিকাকে ভুলে যেও না, ক্ষমা করো না। বরং সেই আগুনের স্মৃতি থেকে শক্তি নিয়ে অখণ্ড ভারতের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করো। জয় হিন্দ!




