VSK প্রতিবেদন: মাদ্রাস হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে যে মন্দিরে ভক্তদের দান করা অর্থ কেবলমাত্র দেবতার সম্পত্তি, সেটি সরকার বা অন্য কোনও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না। ন্যায়পালিকা স্পষ্ট করে বলেছে, এই অর্থ কেবলমাত্র হিন্দুদের ধর্মীয় কাজে ব্যয় করা যাবে।
বিচারপতি এস. এম. সুব্রামনিয়ম ও বিচারপতি জি. অরুল মুরুগনের বেঞ্চ ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তামিলনাড়ু সরকারের জারি করা পাঁচটি সরকারী আদেশ (GO) বাতিল করে দিয়েছে। ওই আদেশগুলোতে মন্দিরের তহবিল ব্যবহার করে বিবাহ মণ্ডপ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
আদালত বলেছে, মন্দিরের অর্থ কেবলমাত্র হিন্দুদের পূজা-পার্বণ, অন্নদান, তীর্থযাত্রীদের কল্যাণ, গরীবদের সাহায্য এবং মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা যাবে। আদালতের মতে, মন্দিরের অর্থকে সরকারি অর্থ হিসেবে দেখা যাবে না, বরং এটি ভক্তদের আত্মিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ফসল, যা দেবতার জন্যই উৎসর্গীকৃত।
এই রায়ে আদালত সতর্ক করে বলেছে, “মন্দিরের অর্থের অন্যত্র ব্যবহার দেবোত্তর সম্পদের অপব্যবহার এবং ভক্তদের ধর্মীয় অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত।”
তামিলনাড়ু সরকার দাবি করেছিল, হিন্দু বিবাহ ধর্মীয় আচার হওয়ায় মন্দিরের তহবিল দিয়ে বিবাহ মণ্ডপ নির্মাণ করা যায়। তবে আদালত জানায়, হিন্দু বিবাহ যদিও একটি ধর্মীয় সংস্কার, তবু আইনি দিক থেকে সেটি চুক্তিভিত্তিক সম্পর্কও। তাই এটিকে ‘ধর্মীয় উদ্দেশ্য’ বলা যাবে না।
এই রায়ের ফলে এখন থেকে মন্দিরের অর্থ কেবল হিন্দু দেবতার নামে ও মন্দির-সংশ্লিষ্ট হিন্দুধর্মীয় কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা যাবে। আদালতের কথায়, “মন্দিরের তহবিল দেবতার জন্য, সরকারের জন্য নয়।





