বিশ্ব গণ্ডার দিবস ২০২৫: আসামের কাজিরাঙার সংরক্ষণ অলৌকিকতা, ১২ থেকে বেড়ে এখন বিশ্বের ৭০% একশৃঙ্গ গণ্ডারের ঠিকানা

SHARE:

[responsivevoice_button voice="Hindi Female"]

VSK প্রতিবেদন: ২২শে সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব গণ্ডার দিবস। এই দিন মানুষকে সচেতন করা হয় পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ও প্রতীকী প্রাণী গণ্ডার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য, বনভূমি রক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গণ্ডারদের ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়।

কাজিরাঙার সাফল্য: ১২ থেকে ৪,০০০

১৯০৮ সালে আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান-এ একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ১২-তে। শিকার, পাচার ও আবাসস্থল ধ্বংসের ফলে বিলুপ্তির মুখে পড়ে যায় এ প্রজাতি। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তারাও খেলাচ্ছলে শত শত গণ্ডার হত্যা করেছিল। ১৯৮৬ সালে ভারতীয় গণ্ডারকে আনুষ্ঠানিকভাবে “বিপন্ন প্রজাতি” ঘোষণা করা হয়।কিন্তু আজ ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। দীর্ঘ দশকের সংরক্ষণ প্রচেষ্টা, সরকারের কঠোর পদক্ষেপ ও স্থানীয় উদ্যোগের ফলে বর্তমানে কাজিরাঙায় গণ্ডারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,০০০-এ, যা বিশ্বের একশৃঙ্গ গণ্ডারের ৭০%। শুধু কাজিরাঙা নয়, আসামজুড়ে গণ্ডারের সংখ্যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,০০০-এরও বেশি।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক্স-এ বার্তা দিয়ে বলেন—
“#WorldRhinoDay উপলক্ষে আমরা আবারও প্রতিশ্রুতি নিচ্ছি গণ্ডার সংরক্ষণে। অপ ফ্যালকন, আবাসস্থল সম্প্রসারণ, আধুনিক মনিটরিং—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আসামে গণ্ডারের সংখ্যা ৬০০ থেকে ৪,০০০-এর বেশি হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ লড়াই চলবে।”২০২২ সালে আসাম সরকার এক অনন্য বার্তা দিয়েছিল। দশকের পর দশক ধরে সংরক্ষিত ২৪৭৯টি গণ্ডারের শিং পাচার মামলার প্রমাণ হিসেবে সরকারি হেফাজতে ছিল।

সরকার সেগুলোকে হিন্দু আচার মেনে ‘দাহ সংস্কার’-এর মাধ্যমে দাহ করে। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যে গণ্ডারের শিং-এর কোনও ঔষধি গুণ নেই, এগুলো আসামের সন্তানদের দেহাবশেষ—যাদের জীবন শিকারিরা অকালে কেড়ে নিয়েছিল।২০১০ সালে WWF-দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্ব গণ্ডার দিবসের ধারণা তুলে ধরে, আর ২০১১ সাল থেকে তা আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়। আজও বিশ্বে মাত্র ৫ প্রজাতির গণ্ডার টিকে আছে—কালো, সাদা, ভারতীয় একশৃঙ্গ, জাভান ও সুমাত্রান—এবং এরা সবাই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। পাচার, অবৈধ বাণিজ্য ও বন উজাড় এদের সবচেয়ে বড় হুমকি।

কাজিরাঙার গল্প বিশ্বে এক বিরল দৃষ্টান্ত। যেখানে গণ্ডার প্রায় বিলুপ্তির পথে ছিল, আজ সেখানেই তারা নিরাপদ ও সমৃদ্ধ। আসাম এখন গণ্ডারের এক বৈশ্বিক দুর্গ।গণ্ডার শুধু বন্যপ্রাণী নয়, তারা আসামের পরিবার। তাদের রক্ষা করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিবেশ রক্ষা করা।

[the_ad id='179']

Leave a Comment

सबसे ज्यादा पड़ गई