VSK প্রতিবেদন: ত্রিপুরার উনকোটি জেলার উদয়পুরে অবস্থিত মা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির, যা স্থানীয়ভাবে মাতাবাড়ি বা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির নামেও পরিচিত, দেশের অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ হিসেবে পূজিত। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের পুনর্নির্মিত রূপ উদ্বোধন করবেন।কথিত আছে, ভগবান শিবের তাণ্ডব নৃত্যের সময় দেবী সতীর দক্ষিণ পদদেশ এখানে পতিত হয়েছিল। সেই থেকেই এই স্থান শক্তিপীঠ হিসেবে পবিত্রতা লাভ করে। ১৫০১ খ্রিস্টাব্দে মহারাজ ধন্য মাণিক্য দেবীর নির্দেশ স্বপ্নে লাভ করে মন্দিরটি নির্মাণ করেন। মন্দিরটি শুধু শক্তির কেন্দ্রই নয়, বৈষ্ণব ও শাক্ত—এই দুই পরম্পরার মিলনক্ষেত্রও। এখানে দেবী ত্রিপুরা সুন্দরীর পাশাপাশি শালগ্রাম শিলারূপে ভগবান বিষ্ণুর পূজা হয়, যা অন্য শক্তিপীঠগুলির মধ্যে একেবারেই বিরল।
মন্দিরের গর্ভগৃহ বাংলার একরাত্ন শৈলীতে নির্মিত এবং এটি কচ্ছপাকৃতির টিলার উপর অবস্থিত হওয়ায় মন্দিরটির আরেক নাম ‘কূর্ম পীঠ’। দেবীমূর্তির পদদেশে খোদাই করা রহস্যময় শ্রীযন্ত্র মহাশক্তি ও মহাশিবের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পূজিত। এখানে পাঁচ ফুট উচ্চতার মা ত্রিপুরা সুন্দরীর কৃষ্ণশিলার মূর্তির পাশাপাশি রয়েছে, ছোট্ট দুই ফুট উচ্চতার ‘ছোটো মা’-এর প্রতিমা, যা অতীতে ত্রিপুরার রাজারা যুদ্ধযাত্রায় সঙ্গে রাখতেন।এখানে লাল জবা ফুল দেবীর অতি প্রিয় বলে মানা হয়। মন্দিরের বিখ্যাত ‘মাতাবাড়ি পেড়া’ সম্প্রতি ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) ট্যাগ পেয়েছে, যা একে জাতীয় স্বীকৃতি প্রদান করেছে।
In a short while, PM @narendramodi will inaugurate the redeveloped Mata Tripura Sundari Temple at Udaipur, Tripura — one of the 51 sacred Shakti Peethas where Maa Sati’s right foot is believed to have fallen.
Built in 1501 by Maharaja Dhanya Manikya, Matabari now stands renewed… pic.twitter.com/0YgA1dSsyw
— OpIndia.com (@OpIndia_com) September 22, 2025
মন্দিরের পুনর্নির্মাণ কাজ কেন্দ্রের PRASHAD (Pilgrimage Rejuvenation and Spiritual Heritage Augmentation Drive) প্রকল্পের অধীনে সম্পন্ন হয়েছে। মোট ৫৪.০৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পে কেন্দ্র সরকার ৩৪.৪৩ কোটি এবং রাজ্য সরকার ১৭.৬১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। উন্নয়নের অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছে মার্বেল ফ্লোরিং, প্রশস্ত পথ, আধুনিক প্রবেশদ্বার, তিনতলা নতুন কমপ্লেক্স যাতে রয়েছে পেড়ার দোকান, ধ্যানকক্ষ, অতিথিশালা ও অফিস। এছাড়াও রয়েছে ফুড কোর্ট, পানীয় জলের ব্যবস্থা, আধুনিক ড্রেনেজ ও টয়লেট ব্লক। পুরোহিত ও কর্মীদের জন্য আবাসন, ভক্তদের জন্য অপেক্ষাকক্ষ, ভিআইপি লাউঞ্জ ও ‘মাতাবাড়ি গ্যালারি’ নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রতিবছর দীপাবলি মেলায় লক্ষাধিক ভক্ত দেশ-বিদেশ থেকে এখানে আসেন, বিশেষ করে প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকেও বহু মানুষ যোগ দেন। ফলে এই মন্দির কেবল আধ্যাত্মিক সাধনার কেন্দ্রই নয়, ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্রও বটে।বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ১২–১৫ লক্ষ ভক্ত মন্দিরে আসেন। পুনর্নির্মাণের পর এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় হোটেল, পরিবহণ, হস্তশিল্প, খাদ্য ব্যবসা ও গাইড পরিষেবার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে, যা ত্রিপুরার অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেবে।
আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী মোদী অরুণাচল সফর শেষে আগরতলা পৌঁছে সেখান থেকে সরাসরি উদয়পুরে যাবেন। সেখানে তিনি পূজা অর্চনা করবেন, তবে জনসভা করার কোনও কর্মসূচি নেই। আগরতলা ও উদয়পুরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ত্রিপুরার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক নব অধ্যায় শুরু হতে চলেছে আজকের এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে।
সৌজন্যে: ওপি ইন্ডিয়া





