সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়: রাষ্ট্রপতি ও গভর্নরদের সিদ্ধান্তে সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে না আদালত

SHARE:

[responsivevoice_button voice="Hindi Female"]

VSK প্রতিবেদন: গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিতর্কে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালদের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আদালত কোনো সময়সীমা চাপিয়ে দিতে পারে না। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্টভাবে খারিজ করেছে ‘ডিমড অ্যাসেন্ট’ বা ‘বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদনের’ ধারণা।

রাষ্ট্রপতির রেফারেন্সে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ— প্রধান বিচারপতি বি.আর. গাভাই, বিচারপতি সুর্যকান্ত, বিক্রম নাথ, পি.এস. নারসিমহা ও এ.এস. চন্দুরকর— সর্বসম্মত রায়ে জানায়, সংবিধানে যেখানে সময়সীমা নির্দিষ্ট নেই, সেখানে আদালত নিজে থেকে কোনো সময়সীমা নির্দেশ করতে পারে না।

সংবিধানে নেই সময়সীমার বিধান — তাই আদালতের হস্তক্ষেপও নয়

আদালত বলেছে, সংবিধান ইচ্ছাকৃতভাবেই রাষ্ট্রপতি ও গভর্নরদের সিদ্ধান্তগ্রহণে একটি “ইলাস্টিসিটি” বা নমনীয়তা রেখেছে। তাই আদালত সেই জায়গায় গিয়ে নির্দেশ দিতে পারে না।

“ডিমড অ্যাসেন্ট সংবিধানের চেতনার বিরুদ্ধে, এটি গভর্নর বা রাষ্ট্রপতির ভূমিকা আদালতের হাতে তুলে দেওয়ার মতো”— এমনটাই পর্যবেক্ষণ বেঞ্চের।

আদালতের ভাষায়,
“ডিমড অ্যাসেন্টের ধারণা মূলত এক সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা অন্য কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া। এটি ক্ষমতার বিভাজন তত্ত্বের বিরোধী এবং কার্যত গভর্নর/রাষ্ট্রপতির কাজ আদালতের হাতে তুলে দেওয়া।”

আদালত আরও স্পষ্ট করেছে যে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনেও আদালত কোনোভাবেই রাষ্ট্রপতি বা গভর্নরের সিদ্ধান্তকে ‘প্রতিস্থাপন’ করতে পারে না।

গভর্নর ও রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত — আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য নয়

বেঞ্চ জানায়, অনুচ্ছেদ ২০০ ও ২০১–এর অধীনে গভর্নর বা রাষ্ট্রপতির কাজ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। বিচারিক পর্যালোচনা কেবল তখনই সম্ভব, যখন একটি বিল আইন হয়ে যায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে,
“বিল পাস হওয়ার আগে আদালতে আনা যায়— এমন ধারণাই অসংগত। কেবল অনির্দিষ্ট, অকারণ বিলম্বের ক্ষেত্রে আদালত সীমিত নির্দেশ দিতে পারে।”

রাষ্ট্রপতির ১৪৩ অনুচ্ছেদে রেফারেন্স থেকে এসেছে প্রশ্নগুলো

এই বছরের মে মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংবিধানের ১৪৩(১) অনুচ্ছেদের অধীনে ১৪টি প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টে পাঠান। কারণ, এর আগে সুপ্রিম কোর্টেরই দুই বিচারপতির একটি বেঞ্চ গভর্নর ও রাষ্ট্রপতির বিল-অনুমোদনের সিদ্ধান্তে ‘সময়সীমা’ বেঁধে দেয়— যা নিয়ে বিরাট সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি হয়।

[the_ad id='179']

Leave a Comment

सबसे ज्यादा पड़ गई