কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে পর্যটনে জোয়ার, দ্বিতীয় স্থানে উঠেও মুখ্যমন্ত্রীর দাবিতে বিতর্ক পশ্চিমবঙ্গে

SHARE:

[responsivevoice_button voice="Hindi Female"]

VSK প্রতিবেদন: ভারতে বিদেশি পর্যটকের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিভিন্ন পর্যটন উদ্যোগের ফলে—এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। দেশের একাধিক রাজ্য এই বৃদ্ধির সুফল পাচ্ছে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম। ২০২৩–২৪ সালে পর্যটনে দেশজুড়ে তৃতীয় স্থানে থাকা পশ্চিমবঙ্গ ২০২5 সালে উন্নীত হয়ে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছেছে। এটি নিঃসন্দেহে দেশের জন্য গৌরবের বিষয়। তবে এই সাফল্যের পূর্ণ কৃতিত্ব দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ্যের এই সাফল্যকে নিজের উদ্যোগের ফল দাবি করেছেন। কিন্তু বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, ২০১১ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকলেও মমতা সরকারের বড়সড় কোনও পর্যটন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং রাজ্যটি লাভবান হয়েছে কেন্দ্রের ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’, ই-ভিসা, মেডিক্যাল ভিসা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন—রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে ক্রজ পরিষেবা—এসব প্রকল্পের জেরে।‘ইন্ডিয়া টুরিজম ডেটা কমপেন্ডিয়াম ২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ এখন সারা দেশে বিদেশি পর্যটক আগমনে দ্বিতীয় স্থানে। বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩.১২ মিলিয়নে। এর আগে মহারাষ্ট্র ও গুজরাত শীর্ষে ছিল, আর বাংলার নিচে ছিল রাজস্থান ও দিল্লি।

কোলকাতার দুর্গাপুজোর আন্তর্জাতিক খ্যাতি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। ২০২১ সালে UNESCO দুর্গাপুজোকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউম্যানিটি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কেন্দ্রের উদ্যোগেই এই স্বীকৃতি এসেছে বলে দাবি বিজেপির, যা শিল্পী ও কারিগরদের আরও উৎসাহ দিয়েছে এবং পুজোর আন্তর্জাতিক প্রচার বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মেডিক্যাল পর্যটক প্রতি বছর চিকিৎসার জন্য বাংলায় আসছেন। কেন্দ্রের ই-ভিসা ও মেডিক্যাল ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। ‘হিল ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের ফলেও বেসরকারি স্বাস্থ্যপরিষেবায় উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’তে ডিজিটাল পরিবর্তন

বাজপেয়ী সরকারের শুরু করা ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে মোদী সরকার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বিশ্বব্যাপী প্রচার এবং ই-ভিসার মাধ্যমে নতুন মাত্রা দেয়। ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া ২.০’ প্রচারাভিযান অনলাইনে ব্যাপক সাড়া ফেলে। পর্যটকদের জন্য ডিজিটাল পোর্টাল, বুকিং সুবিধা, তথ্য-পরিসেবা—সব মিলিয়ে বাংলাও এর সুফল পেয়েছে।গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্র চালু করেছে ভলেন্টারি হোমস্টে ইনিশিয়েটিভ, যেখানে গ্রামগুলিকে হোমস্টে তৈরির অনুমতি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘স্বদেশ দর্শন’ প্রকল্পের অধীনে গড়ে উঠছে রামায়ণ সার্কিট, বৌদ্ধ সার্কিট ও ট্রাইবাল হোমস্টে প্রকল্প।রাজ্যের বিভিন্ন তীর্থস্থান যেমন ত্রিপুরা সান্দুরি মন্দির, চামুন্ডেশ্বরী দেবী মন্দির ও পাটনা সাহিব উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে কেন্দ্র। এ ছাড়াও ‘দেখো আপনা দেশ’ ও উৎসব, অ্যাডভেঞ্চার, ওয়েডিং ও ক্রজ ট্যুরিজমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।হুগলি নদীকে কেন্দ্র করে ‘বেঙ্গল গঙ্গা ক্রজ’ সহ একাধিক নতুন ক্রজ পরিষেবা চালু হয়েছে। এছাড়া ভারত–আসিয়ান সংযোগে নতুন সমুদ্র পর্যটন করিডর তৈরির কাজও চলছে।

[the_ad id='179']

Leave a Comment

सबसे ज्यादा पड़ गई