VSK প্রতিবেদন: বহু বছরের অপেক্ষার পর অযোধ্যায় ভগবান শ্রী রামের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত স্থানে নির্মিত হয়েছে রামমন্দির। গর্ভগৃহে রামলালার প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই মন্দির নির্মাণের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আইনি লড়াই, আন্দোলন ও ঐতিহাসিক সংঘাতের অধ্যায়।
ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, স্থাপনাটি নিয়ে বিরোধের সূচনা ১৯শ শতকের শেষ দিকে হলেও ১৯৯০–এর দশকে বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক গুরুত্ব পায়। ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় পুনর্নিমানের সূচনা করে ফেলেন হাজারো কারসেবক, যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বহুবর্ষব্যাপী রাজনৈতিক–আইনি টানাপোড়েনের সূচনা হয়।
সেদিন শহরের রামকথা কুঞ্জে বড় মঞ্চ তৈরি হয়েছিল, যেখানে লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলি মনোহর যোশীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও বহু সাধুসন্ত উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকে সেখানে পূজা–পাঠ ও ভজন চলছিল। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ওইদিন সকালে স্থানটি পর্যবেক্ষণ করেন, তবে দুপুরের পর হঠাৎ পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সেই সময়ে আদালতের নির্দেশ ছিল যে বিতর্কিত স্থানে কোনো ধরনের নির্মাণ বা পরিবর্তন করা যাবে না। উত্তর প্রদেশের তৎকালীন সরকারও আদালতকে আশ্বস্ত করেছিল যে নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হবে। কিন্তু হঠাৎ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই জমিতে রামমন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয় এবং বিকল্প একটি জমিতে মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেয়। সেই রায়ের ভিত্তিতেই বর্তমান মন্দির নির্মাণ শুরু হয় এবং এখন তা সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে।
অযোধ্যার নতুন রামমন্দিরকে কেন্দ্র করে এখন দেশ–বিদেশের লাখো ভক্তের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নির্মাণ ভারতীয় সাংস্কৃতিক–ধর্মীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।





