VSK প্রতিবেদন: এক ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার জানিয়েছে, মন্দিরে জমা রাখা অর্থ সম্পূর্ণভাবে presiding deity-এর অধিকারভুক্ত, তাই তা কোনোভাবেই আর্থিক সংকটে ভুগতে থাকা কো-অপারেটিভ ব্যাংক বাঁচাতে ব্যবহার করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ কেরালার বিভিন্ন কো-অপারেটিভ সোসাইটির করা বিশেষ অনুমতি আবেদনের (SLP) খারিজ করে দেয় এবং কেরালা হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রাখে।
এই মামলার সূত্রপাত হয় ওয়ানাড় জেলার শ্রী তিরুনেল্লি দেবাস্বম ট্রাস্ট–কে কেন্দ্র করে। ট্রাস্টটি তিরুনেল্লি সার্ভিস কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড এবং মানন্থাওয়াডি কো-অপারেটিভ আরবান সোসাইটি লিমিটেডসহ বেশ কয়েকটি স্থানীয় কো-অপারেটিভ ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (FD) রেখেছিল। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো আর্থিক সংকটের অজুহাতে অর্থ ফেরত দেয়নি।
এরপর ট্রাস্টটি কেরালা হাইকোর্টে যায়। ২০২৫ সালের আগস্টে হাইকোর্ট ব্যাংকগুলোকে দুই মাসের মধ্যে স্থায়ী আমানত ভেঙে সুদসহ অর্থ ফেরত দিতে নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে মানন্থাওয়াডি কো-অপারেটিভ আরবান সোসাইটি লিমিটেড ও তিরুনেল্লি সার্ভিস কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে, দাবি করে যে নির্ধারিত সময়সীমা ব্যাংকের কার্যক্রমে ‘চাপ’ তৈরি করছে।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে ব্যাংককে অবশ্যই মন্দিরের জমা ফেরত দিতে হবে। শুনানিতে সিজেআই সুর্য কান্ত মন্তব্য করেন:
“মন্দিরের টাকা প্রথমত দেবতার। এটি সুরক্ষিত রেখে মন্দিরের স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে। কোনো কো-অপারেটিভ ব্যাংকের টিকে থাকার উৎস হিসেবে এটি ব্যবহার করা যায় না।”
বেঞ্চ আরও প্রশ্ন তোলে হাইকোর্টের আদেশে ভুল কোথায়—
“আপনারা কি মন্দিরের টাকা দিয়ে ব্যাংক বাঁচাতে চান? অসুস্থ কো-অপারেটিভ ব্যাংকে রেখে দেওয়ার বদলে সুস্থ জাতীয়কৃত ব্যাংকে রাখলে বেশি সুদই তো পাওয়া যাবে।”
ব্যাংকের পক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেন, হাইকোর্টের ‘হঠাৎ’ নির্দেশে দুই মাসে টাকা ফেরত দেওয়া কঠিন। কিন্তু বিচারপতি বাগচি বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ আমানত চাইলে সঙ্গে সঙ্গে ফেরত দেওয়াই নিয়ম। তাই এই যুক্তিও আদালত প্রত্যাখ্যান করে।
সবশেষে, সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রাখে, তবে প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে হাইকোর্টে আবেদন করার স্বাধীনতা দেয়।
এ রায়ের ফলে মন্দিরের তহবিলের সুরক্ষা নিয়ে দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি হলো।




