সংঘের উদ্দেশ্য ভারতকে বিশ্বগুরু বানানো – ড. মোহন ভাগবত

SHARE:

[responsivevoice_button voice="Hindi Female"]

VSK প্রতিবেদন: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সর সঙ্ঘচালক ড. মোহন ভাগবতজী আজ দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত “১০০ বছরের সংঘ যাত্রা – নতুন দিগন্ত” শীর্ষক বক্তব্যমালার প্রথম দিনে বলেছেন, “সংঘের আসল উদ্দেশ্য ভারতকে বিশ্বগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।” তিনি আরও বলেন, সংঘের মূল অনুপ্রেরণা আসে ‘ভারতমাতা কি জয়‘ এই শ্লোগান থেকে, যা সংঘের কাজের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

ড. ভাগবতজী স্পষ্টভাবে বলেন, সংঘের কর্মকাণ্ড ধীরে কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, যা এখনও চলছে। যদিও সংঘ হিন্দু শব্দ ব্যবহার করে, কিন্তু তার প্রকৃত উদ্দেশ্য “বসুধৈব কুটুম্বকম” (বিশ্বই এক পরিবার) এই ধারণায় ভিত্তি করে। সংঘ নিজে একটি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন, যেখানে কর্মীরা নিজেদের দ্বারা নতুন কর্মী তৈরি করে।

???? সংঘের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইতিহাস:

ড. মোহন ভাগবতজী তার বক্তব্যে বলেন, “ভারতীয় রাষ্ট্রের ধারণা কখনওই শাসনক্ষমতা বা রাষ্ট্রের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি।” তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব  ব্যর্থ হলেও নতুন চেতনা জাগিয়েছিল। এরপর আস্তে আস্তে ভারতীয়রা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল, “কীভাবে অল্প কিছু সংখ্যা লোক আমাদের পরাজিত করতে পেরেছিল?”

এরপর, তিনি উল্লেখ করেন যে স্বাধীনতা সংগ্রামের পর কংগ্রেসের চিন্তা দিশাহীন হয়ে পড়েছিল, কারণ তারা দেশের মানুষের মধ্যে সঠিক আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছিল। অন্যদিকে, স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী এবং স্বামী বিবেকানন্দ ভারতীয় সংস্কৃতির মূল দিকে ফিরে আসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।

???? ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ও হিন্দু ধারা:

ড. ভাগবতজী আরও বলেন, “হিন্দু নামের মর্ম শুধুমাত্র ধর্মের উপর নয়, বরং জাতির প্রতি দায়িত্বের ব্যাপার।” হিন্দু শব্দটি ‘সম্ভাবনা’ এবং ‘সমাবেশ’কে প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি বলেছেন, “হিন্দু মানে, অন্যকে বদলানোর নয়, নিজের পথে চলার স্বাধীনতা, অন্যের শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসকে সম্মান করা।”

ভারতের বৈশিষ্ট্য সমন্বয়ের, সংঘর্ষের নয়। ভারতীয় ঐক্যের রহস্য তার ভূগোল, সম্পদ এবং আত্মনিরীক্ষণের ঐতিহ্যে নিহিত। তিনি বলেছেন, “ভারত মাতা এবং পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধা করা সঠিক হিন্দু ধর্মের পরিচয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সমাজে যতদিন না আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করব, ততদিন সংঘের কাজ অসম্পূর্ণ।”

সংঘের কাজের পদ্ধতি ও অনন্য বৈশিষ্ট্য:

ড. ভাগবতজী জানান, সংঘ দুইটি প্রধান পথ অনুসরণ করে:
১. মানুষের আত্ম-উন্নয়ন করা।
২. সেই মানুষের মাধ্যমে সমাজের কাজ পরিচালনা করা।

তিনি বলেন, সংঘের কাজ সম্পূর্ণভাবে স্বেচ্ছাসেবকরা করে থাকে, এবং তাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে সংগঠনটি কাজ করে কেবল ব্যক্তিগত উৎসাহ এবং আগ্রহের উপর, “গুরু দক্ষিণা” প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবকের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সংঘের প্রধান উদ্দেশ্য, “সমাজের ভিতরে গুটিকতক গোষ্ঠী তৈরি না করা, বরং সকলকে একত্রিত করা”।

???? অতিথিরা ও উপস্থিতি:

এই বক্তব্যমালায় উপস্থিত ছিলেন—
✔️ সংঘের সরকার্যवाह দত্তাত্রেয় হোসবালে
✔️ উত্তর অঞ্চলের সংঘচালক পবন জিন্দল
✔️ দিল্লি প্রদেশের সংঘচালক ড. অনিল আগরওয়াল

এছাড়াও, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি, কূটনীতিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য এবং শিল্প ও খেলা জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

ড. মোহন ভাগবতজী স্পষ্টভাবে বলেছেন, সংঘ একটি সামাজিক পরিবর্তনের সংগঠন, যা ভারতকে বিশ্বগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। সংঘের মূল উদ্দেশ্য কোনও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং ভারতের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলা।এই তিন দিনব্যাপী বক্তব্যমালার লক্ষ্য হলো সংঘের সত্যি দৃষ্টিভঙ্গি সমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়া। অনুষ্ঠানে আরও অনেক গভীর বিষয় আলোচনা হবে, যা ভারতীয় সমাজ এবং সংস্কৃতির উন্নতির জন্য সহায়ক হতে পারে।

[the_ad id='179']

Leave a Comment

सबसे ज्यादा पड़ गई