VSK প্রতিবেদন: আজ সমগ্র দেশজুড়ে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলো ভারত। দেশের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’–এর রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন এবং হাজারো কণ্ঠে একসঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণ সংস্করণের গানে অংশ নেন।
এই বিশেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী স্মারক ডাকটিকিট এবং ‘বন্দে মাতরম’–ভিত্তিক এক বিশেষ স্মারক মুদ্রা উন্মোচন করেন, যা এই দিনটিকে ভারতের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
ভারত সরকার ঘোষণা করেছে যে, ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী এক বছর জুড়ে দেশব্যাপী নানা অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এই বছরকে সরকার ঘোষণা করেছে “জাতীয় গৌরব বর্ষ” হিসেবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এই দিন শুধু একটি উদ্যাপন নয়, এটি ভারতের আত্মমর্যাদা, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতীক।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন,
“‘বন্দে মাতরম’ কোনো সাধারণ গান নয় — এটি এক মন্ত্র, এক শক্তি, এক অঙ্গীকার। এটি আমাদের অতীতের সাথে সংযোগ ঘটায়, বর্তমানকে আত্মবিশ্বাস দেয় এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন প্রেরণা জাগায়।”
তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বর দিনটি ভারতের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে — কারণ এটি কেবল এক সুরের জন্মদিন নয়, বরং ভারতের ঐক্য ও আত্মসম্মানের দিন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন,
“বঙ্কিম বাবুর ‘আনন্দমঠ’ শুধু একটি উপন্যাস নয়, এটি ছিল স্বাধীন ভারতের এক স্বপ্ন। ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রতিটি শব্দে স্বাধীনতার শক্তি ও জাতীয় গৌরব নিহিত। পরাধীনতার অন্ধকারে এই গানই হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতার প্রদীপ।”
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে শুরু করলে গোটা প্রাঙ্গণ দেশাত্মবোধে মুখরিত হয়ে ওঠে। উপস্থিত অতিথি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন।
অনুষ্ঠান শেষে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এই বার্তা —
“বন্দে মাতরম শুধু গান নয়, এটি ভারতের আত্মা।”





